Home / দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম / গোরস্থানে কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া করার বিধান

গোরস্থানে কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া করার বিধান

প্রবন্ধটি পড়া হলে শেয়ার করতে ভুলবেনা

শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময়, অতি দয়ালু।

গোরস্থানে কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া করার বিধানঃ  সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মুসলিম করে পৃথীবিতে পাঠিয়েছেন এবং সেই সাথে নবী (ছাঃ) এর উপর শান্তি বর্ষিত হউক যিনি দ্বীনকে এত সুন্দর করে আমাদের কাছে পৌছে দিয়েছেন।

কবরেবা গোরস্থানে কুরআন তেলাওয়া করা বিদআত। এ সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর ছাহাবায়ে কেরাম থেকে কোন প্রমাণ নেই। আর যেব্যাপারে শরীয়তে কোন প্রমাণ নেই তা আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করাজায়েয নয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ

“প্রত্যেকনতুন উদ্ভাবিত কাজই বিদআত। প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেকভ্রষ্টতার পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।”অতএব মুসলমানদের উপর ওয়াজিব হচ্ছে, পূর্ববর্তী নেক সম্প্রদায় ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনের পদাঙ্ক অনুসরণ করা।যাতে করে তারা কল্যাণ ও হেদায়াত লাভ করতে পারে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

 إِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ 

“নিশ্চয়সর্বত্তোম বাণী হচ্ছে আল্লাহ্‌র কিতাব, আর সর্বত্তোম হেদায়াত হচ্ছেমুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হেদায়াত।”

কবরেরকাছে গিয়ে মৃতের জন্য দু’আ করাতে কোন অসুবিধা নেই। কবরের কাছে দন্ডায়মানহয়ে সাধ্যানুযায়ী মৃতের জন্য দু’আ করবে। যেমন এরূপ বলবে, “হে আল্লাহ্‌ তাকেক্ষমা কর। হে আল্লাহ্‌ তাকে দয়া কর। হে আল্লাহ্‌ তাকে জান্নাতে প্রবেশকরাও। হে আল্লাহ্‌ তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও। .. ইত্যাদি।

আরকবরের কাছে নিজের জন্য দু’আ করার উদ্দেশ্যে কেউ যদি সেখানে যায়, তবে তাবিদআত। কেননা শরীয়তের প্রমাণ ব্যতিরেকে কোন স্থানকে দু’আর জন্য নির্ধারণকরা যাবে না। আর যে ব্যাপারে কোন নির্দেশনা নেই তা নিজেদের পক্ষ থেকেনির্ধারণ করা বিদআত।

কবর যিয়ারত করার নিয়ম এবং নারিদের কবর যিয়ারত করার বিধানঃ

কবর যিয়ারত করা সুন্নাত। কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করার পর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন,

كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا فَإِنَّهَا تُذَكِّرُكُمُ الْآخِرَةَ

“পূর্বেআমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা উহা যিয়ারত করতেপার। কেননা কবর যিয়ারত তোমাদেরকে আখেরাতের কথা স্মরণ করাবে।”অতএব মরণেরকথা স্মরণ ও উপদেশ গ্রহণের জন্য কবর যিয়ারত করতে হবে। কেননা মানুষ যখন মৃতলোকদের কবর যিয়ারত করবে, যারা কিনা তাদের সাথে তাদের মতই পৃথিবীতে বিচরণকরত, খানা-পিনা করত, দুনিয়াদারী করত। আজ তারাই নিজেদের কর্মের হাতে বন্দী।কর্ম ভাল থাকলে তাদের পরিণাম ভাল। কর্ম মন্দ থাকলে পরিণাম মন্দ- তখননিঃসন্দেহে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করবে তার অন্তর নরম হবে, সে আল্লাহর দিকেধাবিত হবে। তখন আল্লাহ্‌র নাফরমানী থেকে ফিরে আসবে তাঁর আনুগত্যের দিকে।কবর যিয়ারতের সময় সুন্নাত হচ্ছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এরপঠিত দু‘আ পাঠ করা। কবরবাসীকে সালাম দিবেঃ

(السَّلاَمُعَلَيْكُمْ أهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُسْلِمِيْنَوإناَّ إنْ شاَءَ اللهُ بِكُمْ لاَحِقُوْنَ ويَرْحَمُ اللهُالْمُسْتَقْدِمِيْنَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِيْنَ أسألُ اللهَ لَناَوَلَكُمُ الْعاَفِيَةَ)

“হেকবরের অধিবাসী মু’মিন ও মুসলিমগণ! আপনাদের প্রতি শান্তির ধারা বর্ষিত হোক।নিশ্চয় আমরাও আপনাদের সাথে এসে মিলিত হব ইনশাআল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌ আমাদেরপূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের উপর রহম করুন। আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছেনিরাপত্তার প্রার্থনা করছি।”

আরনবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন কোন প্রমাণ নেই যে, তিনিকবর যিয়ারতের সময় সূরা ফাতিহা, বা সূরা ইখলাছ বা দরূদ শরীফ পাঠ করেছেন।অতএব কবর যিয়ারতের সময় এগুলো পাঠ করা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর শরীয়ত বহির্ভূত কাজ।

নারীদেরকবর যিয়ারত করা হারাম। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরযিয়ারত কারীনীদেরকে লা‘নত করেছেন। আরো লা‘নত করেছেন কবরে বাতি জ্বালানো ওমসজিদ নির্মাণকারীদেরকে। অতএব নারীদের জন্য কবর যিয়ারত হালাল নয়। এইনিষিদ্ধতা যদি কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়। কিন্তু কবর যিয়ারতেরনিয়ত ছাড়া অন্য কোন কারণে যদি ঘর থেকে বের হয়; তারপর চলার পথে কবর বাগোরস্থান পাওয়া যায়, তবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর শিখানোপদ্ধতিতে সালাম প্রদান করবে। অতএব ঘর থেকে শুধুমাত্র কবর যিয়ারতেরউদ্দেশ্যে বের হয়ে কবর যিয়ারত করা হারাম। কেননা এর মাধ্যমে নিজেকে ফিৎনারসম্মুখিন করবে। কিন্তু কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্য না করে বের হয়ে চলতি পথেপাওয়া কবরে সালাম প্রদান করাতে কোন অসুবিধা নেই।

(ফাতোয়া আরকানুল থেকে)

Check Also

আল্লাহ কেন সকল মানুষকে মুসলিম হতে বাধ্য করেন নি?

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি …

মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *